সেমিকন্ডাক্টরের ইতিহাস

বর্তমান যুগ হল ইলেক্ট্রনিক্সের যুগ। আর আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্সের প্রধান ভিত্তি হল সেমিকন্ডাক্টর ( Semiconductor )। সেমিকন্ডাক্টর এমনি একটি উপাদান যার ভিতরে একই সাথে বিদ্যুৎ পরিবাহী ও অন্তরক এর ধর্ম বিদ্যমান(সিলিকন, জারমেনিয়াম, সেলেনিয়াম, কার্বন, ইত্যাদি)। আমাদের জীবনের সবক্ষেত্র ইলেক্ট্রনিক্সের জন্য সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন কম্পিউটার ছিল একটা অডিটোরিয়ামের সমান, রেডিও, টিভি ছিল বিশাল আকারের। আজ সব হাতের মুঠোতে এনে দিলো Transistor, Integrated circuit- এর মত কিছু ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্ট, যার মূল উপাদান সেমিকন্ডাক্টর।

কিভাবে আবিস্কার হল এই সেমিকন্ডাক্টর?

১৮৩৩ সালে প্রথম সেমিকন্ডাক্টরের গুনাগুণ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে বর্ণনা করেন। বেনজিন নিয়ে কাজ করার সময় তিনি প্রথম সেমিকন্ডাক্টরের অস্তিত্ব নিরীক্ষণ করেন। ১৮৩৩ সালে তিনি দেখেন যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুৎ পরিবাহী ক্ষমতা বাড়ে যা ধাতুর ধর্মের বিপরীত। তার বিখ্যাত বই “Experimental Researches in Electricity” তে তিনি বলেছেন, “I have lately met with an extraordinary case…. Which is in direct contrast with the influence of heat upon metallic bodies.. on applying a lamp …the conducting power rose rapidly with the heat… On removing the lamp and allowing the heat to fall, the effects were reversed.” তার ভাষ্যমতে, তিনি এক অদ্ভুত অসাধারণ ঘটনা দেখেন যে তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পরিবাহী ক্ষমতা বাড়ে এবং তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে এই প্রক্রিয়া বিপরীত হয় যা কোন ধাতব শরীরে তাপমাত্রার প্রভাবের বিপরীত।

Semiconductor01
এভাবেই সেমিকন্ডাক্টরের যাত্রা শুরু। ১৮৩৯ সালে এ.ই.বিকিউরেল ফটোভোলটাইক ক্রিয়া, ১৮৭৪ সালে কার্ল ফারদিনান্দ ব্রাউন রেকটিফিকেসন পর্যবেক্ষণ করেন। ১৮৭৮ সালে এডউইন হার্বার্ট হল চৌম্বক ক্ষেত্রে বহমান চার্জ ক্যারিয়ারের পরিবর্তন প্রদর্শন করেন যা “হল এফেক্ট” নামে পরিচিত। এরপর ১৮৯৭ সালে জে.জে. থমসনের ইলেকট্রন আবিস্কারের পর ইলেকট্রনের উপর ভিত্তি করে পরিবাহী ক্ষমতার মতবাদ হয়। এরপর ১৯১৪ সালে জোহান কয়েনগসবার্জার প্রথম কঠিন উপাদানগুলোকে ধাতু, অন্তরক এবং পরিবর্তনশীল পরিবাহী এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন। ১৯২৮ সালে ফেলিক্স ব্লছ ইলেকট্রনের গতিবিধি সম্পর্কে মতবাদ দেন। ১৯৩১ সালে যখন অ্যালান হেরিচ উইলসন পরিবাহী ক্ষমতার ব্যান্ড তত্বে ব্যান্ডের খালি জায়গা সম্পর্কে ধারণা দিলেন তখন সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কে ধারণা আর এক ধাপ এগিয়ে গেল। এরপর ওয়ালটার এইচ শটকী এবং নেভিল ফ্রাঞ্চিস মট ‘ধাতব সেমিকন্ডাক্টর জংশন’ এর চরিত্র বর্ণনা করেন। এরপর ১৯৩৮ সালে বরিশ ডাভইদভ রেকটিফায়ার, পি-এন জংশন এবং সংখ্যালঘু চার্জ বাহক সম্পর্কে মতবাদ দেন। এরপর জন বার্ডেন ধারণা দেন কিভাবে অল্পকিছু অপদ্রব্য মিশালে সেমিকন্ডাক্টরের ধর্ম নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়। সেমিকন্ডাক্টরের ধারণা এভাবে আস্তে আস্তে উন্নত হতে থাকে এবং সেমিকন্ডাক্টর দ্বারা বিভিন্ন কম্পোনেন্ট তৈরি হওয়া শুরু হয়। জার্মান বিজ্ঞানী ফারদিনান্দ বারুন ১৮৭৪ সালে লেড সালফাইড নিয়ে কাজ করার সময় দেখেন যে মুক্তভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ একটি দিকেই হচ্ছে। আসলে তিনি ঐ সময় রেকটিফিকেশনের এফেক্ট আবিষ্কার করেছিলেন। ১৮৭৬ সালে তিনি প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড তৈরি করেন কিন্তু ইহার কোন কার্যকরী ব্যবহার পাওয়া গেলো নাহ। বিজ্ঞানী সি.ই.ফিটস ১৮৮৬ সালে কারেন্ট রেকটিফায়ার তৈরি করেন। তখন এটির আবিষ্কারের বাস্তব কোন ব্যবহার না পাওয়া গেলেও ১৯৩০ সালে এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রুপান্তর করার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা হয়। ১৯০১ সালে বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু রেডিও সিগন্যাল খোঁজার জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড ব্যবহার করেন। এরপর ১৯২০ সালে রেডিওতে ভ্যাকিউম টিউবের ব্যবহারকে বন্ধ করে সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড। তারপর দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় পুনরায় বেতারতরঙ্গ এর কম্পাঙ্ক চালনা করার জন্য এর বৈশিষ্ট্য সবার নজর কারে। এরপর ১৯০৭ সালে এইচ.যে. রাউন্ড এল.ই.ডি আবিষ্কার করেন। সেমিকন্ডাক্টর দ্বারা তৈরি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হল ট্রানজিস্টার। ১৯৪৭ সালে জন বারডেন, ওয়ালটার ব্রাটাইন, উইলিয়াম শকলিই ট্রানজিস্টারের উদ্ভভাবন করেন। ইহাকে ইলেক্ট্রনিক্সের হৃদয় বলা হয় এবং এটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ছিল। এরপর ১৯৫৭-১৯৫৯ সালের মধ্যে ইনটিগ্রেটেড সার্কিটের আবিষ্কার হয় একইসাথে ফেয়ারচাইল্ড এবং টেক্সাস কোম্পানিতে। জাক কিলবি টেক্সাস কোম্পানিতে এবং রবার্ট নয়ছ ফেয়ারচাইল্ডে এর বিকাশ ঘটান।
এভাবেই সেমিকন্ডাক্টরের উত্থান থেকে আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্সকের জন্ম হয়েছে। এখন আমাদের জীবনের সবক্ষেত্র আজ ইলেক্ট্রনিক্সের উপর নির্ভরশীল। বস্তুত, ইলেক্ট্রনিক্স ছাড়া আজ চলা অসম্ভব।
যদি  ইলেক্ট্রনিক্সকে জানতে পারা যায়, তাহলে বুঝা যাবে …..”তুমি না থাকেলে সকালটা এত মিষ্টি হত না……”এই তুমি সেই তুমি না এই তুমি হল ইলেক্ট্রনিক্স।

Advertisements

ইলেক্ট্রনিক্সের ইতিহাস

১। ইলেক্ট্রনিক্স কি?

Electronics শব্দটি ইংরেজী শব্দ। এটা গ্রীক শব্দ Elektron হতে এসেছে। Elektron শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয় বাহ্যিকভাবে প্রয়োগকৃত তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে এর পরমানুর আচরণ পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা।

The Institution of Radio Engineers (IRE) ইন্সটিটিউশন অব রেডিও ইঞ্জিনিয়ার্স ‘ইলেকট্রনিক্স’ কে সজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে –‘ ইলেকট্রনিক্স হলো সাইন্স এবং টেকনোলজীর একটি শাখা যা ভ্যাকুয়াম, গ্যাস ও অর্ধপরিবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে পরমানুর প্রবাহ সম্পর্কিত বিষয়াদি এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিভাইসের নকশা প্রণয়ন ও প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে অধ্যয়ণ ও গবেষণা করে থাকেন। [Proceedings of I.R.E. Vol. 38 (1950)]

পরিশেষে বলা যায় যে, ইলেকট্রনিক্স তড়িৎ প্রকৌশলের একটি শাখা যেখানে ভ্যাকিউম টিউব অথবা অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ এর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ আলোচিত হয়। এতে সাধারণত ক্ষুদ্র আকারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন আই সি কম্পিউটার, ইত্যাদি আলোচিত হয়।

Electronics is the branch of physics and technology concerned with the design of circuits using transistors and microchip , and with behavior and movement of electrons._________Oxford Dictionary

সূচনাকাল ও শুরুঃ
sar william crook
সার উইলিয়াম ক্রুক

ইলেক্ট্রনিক্স এর চর্চা কখন থেকে শুরু হয়েছে তা নিয়ে গবেষক দের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলেও অধিকাংশ গবেষক বায়ুশূন্য নলের উদ্ভাবন ও ব্যবহার কে এর শুরু বলে ধারন করা হয়। একজন জার্মান গবেষক গেসিলার ১৮৫০ সালের কাছাকাছি পরিক্ষন করার সময় লক্ষ করেন যে যদি বায়ুশূন্য নলের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করানো হয় তবে সেখানে হতে শিখা বীহিন আলোক স্ফুলিঙ্গ বের হয়।

১৮৭৮ সালের দিকে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সার উইলিয়াম ক্রক্স দেখেন যে বায়ুশূন্য নলের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ মূলত কিছু কনার সমষ্টি।

এই গবেশনার উপর ভিত্তি করে সার জে জে থমসন ক্যাথোড রশ্মির উপর গবেষণা চালান ও এই কনার উপর বৈশিষ্ট সমুহ আবিষ্কার করেন। এর পর ১৮৯৭ সালে ইলেক্ট্রনিক্স এর অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়। ইলেক্ট্রনিক্স এর বৈশিষ্ট্য ও আবিষ্কার এর পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে অনেক সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে। এর ফলে পরবর্তী যুগে থেকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের গঠন ও নকশা প্রনয়নের কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়েছে।

১৯০৪ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পদার্থবিদ স্যার এমব্রোস ফ্লেমিং, (Sir Ambrose Fleming) একটি বিশেষ ধরণের ভ্যাকুয়াম টিউব আবিষ্কার করেন। ফ্লেমিং এর টিউবটি ছিল মূলতঃ একটি ভ্যাকুয়াম টিউব ডায়োড যা দিক পরিবর্তি প্রবাহকে একমূখী প্রবাহে রূপান্তর করতে পারত এবং এটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ ডিটেকশনে রেডিও রিসিভারে ব্যবহৃত হতো।

১৯০৬ সালে মার্কিন তড়িৎ প্রকৌশলী লী-ডি-ফরেষ্ট (Lee de Forest) বিশেষ ধরণের টিউব আবিষ্কার করেন যা ছিল মূলতঃ ভ্যাকুয়াম টিউব ট্রায়োড এবং ইহা তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারত। ফরেষ্টের এই টিউবটি অডিওন নামে পরিচিত, এবং পরবর্তিতে এটি টেলিফোনি প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯২০ সালে মার্কিন তড়িৎ প্রকৌশলী আলবার্ট হাল (Albert Hull) ম্যাগনিট্রন আবিষ্কার করেন যা উচ্চ শক্তির মাইক্রোওয়েভ সৃষ্টি করতে পারত। পরবর্তিতে ম্যাগনিট্রন ব্যবহার করে সেনাবাহিনী রাডার (RADAR) সিস্টেমের ব্যপক উন্নয়ন করে।

১৯৪৭ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরীর তিন গবেষক উইলিয়াম ব্রাডফোর্ড শকলি, স্যার জন বার্ডিন এবং ওয়ালটার ব্রাটেইন যৌথভাবে সর্বপ্রথম সেমিকন্ডাকটর নির্মিত ট্রানজিস্টর আবিস্কার করা হয়। ট্রানজিস্টর আবিস্কারের মাধ্যমে সলিড স্টেট যুগের সূচনা হয়, সলিড স্টেট ডিভাইসের ব্যপক উন্নয়ন হতে থাকে ফলে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসমূহ আকার ক্রমান্বয়ে আগের চেয়ে ছোট হতে থাকে।

ট্রানজিস্টরসমূহ আকারে দেখতে ছোট, দ্রুতগতির সুইচিং ক্ষমতা সম্পন্ন এবং কম পাওয়ার অপচয়কারী হবার কারণে তা দ্রুত টিউবকে অপসারন করে নিজের যায়গা দখল করে নেয় এবং ব্যপকভাবে তড়িৎ বর্তনীতে ব্যবহার হতে থাকে। ফলে বর্তনী সমূহের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি পায়।

আইসিঃ

১৯৫৯ সালে রবার্ট নরটন নয়ছি এই ধারণা দেন, একই সিলিকন খন্ডের উপর বহু সংখ্যক ডিভাইস নির্মান এবং তাদের ভিতর সাধারণত এই ধরনের আন্তঃসংযোগ সৃষ্টি সম্ভব, এর ফলে ডিভাইসের গড় আকার, ওজন ও উৎপাদন ব্যয় কমবে। মনোলিথিক প্রকৃয়ায় তৈরীকৃত এই সকল বর্তনীসমূহকে একীভূত বর্তনী বা Integrated Circuit বলে। ১৯৬১ সাল হতে ফেয়ারচাইল্ড Fairchild এবং টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্ট Texas Instruments বাণিজ্যিকভাবে IC উৎপাদন শুরু করে।

পরবর্তীতে এই প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়ে একীভূত বর্তনীতে ডিভাইসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৬১ সালে (SSI), ১৯৬৬ সালে (MSI), ১৯৭০ সালে (LSI) এবং ১৯৮০ সালে (VLSI) ইন্টিগ্রেশন গৃহীত হয়। ফলে আজকের দিনে উৎপাদিত একটি VLSI একক চীপে প্রায় এক মিলিয়নের অধিক ডিভাইস একীভূত করা সম্ভব। সমন্বিত বর্তনী প্রযুক্তির উন্নয়ন ইলেকট্রনিক প্রকৌশলের উন্নয়নের গতিকে আরো তরান্বিত করেছে। কমিউনিকেশন ও কম্পিউটার শিল্পের উন্নত হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি IC টেকনোলজির উন্নয়নের ফলেই সম্ভব হয়েছে।
রবার্ট নরটন নয়ছি

IC টেকনোলজির সুবাদে ১৯৭১ সালে ইন্টেল কর্পোরেশন সর্ব প্রথম ৪ বিটের মাইক্রোপ্রসেসর ইনটেল – ৪০০৪ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়, এর ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার উদ্ভাবনের পথ সুগম হয়। ১৯৭৩ সালে ইন্টেল কর্পোরেশন ৮ বিটের মাইক্রোপ্রসেসর ইনটেল – ৮০৮০ উদ্ভাবন করে যার মাধ্যমে প্রথম ব্যাক্তিগত কম্পিউটার Altair 8800 তৈরী সম্ভব হয়। এর পর ধিরে ধিরে এর হালনাগাদ শুরু হয়েছে।

এছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যে সব বিষয় গুলোর জন্য ইলেক্ট্রনিক্স এর অবস্থা পরিবর্তন হচ্ছে। যুগে যুগে এর পরিবর্তন হবে।

২। এর প্রয়োজনীয়তাঃ

এর প্রয়োজনীয়তা লিখে শেষ করা সম্বব না। প্রযুক্তির যুগে এমন কোন স্থান নেই যেখানে এর ব্যবহার হয় না। একটু চিন্তা করে দেখেন ১০ বছর আগের কম্পিউটার এর কথা। এর আকার কত বড় ছিল। নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুরো এক রুম লাগত। আর এখন এটা এমন আকৃতি করা হয়েছে যেটা মানুশের কাছে খুব ব্যাবহার যোগ্য।

৩। যে সব ডিভাইসে ইলেক্ট্রনিক্স এর ব্যাবহারঃ

প্রায় সব দরনের ডিভাইসে এর ব্যাবহার করা হয়। ইলেক্ট্রনিক্স এর ইকুইপমেন্ট গুলো এখন হালনাগাদ করা হচ্ছে। এবং সেই ইকুপমেন্ট গুলো কে বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যাবহার করা হচ্ছে।

রেডিও, টেলিভিশিন, কম্পিউটার,মোবাইল ফোন, রোবট আরও অনেক ডিভাইস আছে যেগুলোতে ব্যাবহার করা হয়।
যোগাযোগ ও বিনোদন মূলক বাবস্থায় এর ব্যবহার হয়।
কন্ট্রোল ভিত্তিক ও ইন্সট্রুমেন্টশন এ এর প্রয়োগ ক্ষেত্র রয়েছে।
প্রতিরক্ষা কাজে এর ব্যবহার হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রয়োগ ক্ষেত্র।
এসব ডিভাইসকে দিনে দিনে আপডেট করে ব্যাবহার যোগ্য করা হয়।

৪। ইলেক্ট্রনিক্স এর শাখাঃ

ইলেক্ট্রনিক্স এর বিভিন্ন শাখা রয়েসে যেগুলো পরবর্তী লেখাতে আলোচনা করা হবে।

ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স।
এনালগ ইলেক্ট্রনিক্স।
মাইক্রো ইলেক্ত্রিনিক্স।
ফুজি ইলেক্ট্রনিক্স।
সার্কিট ডিজাইন।
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
সেমিকন্ডাক্টর।

আলহামদুলিল্লাহ্‌

(১) তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে একে অন্যের চেয়ে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন এই নিমিত্তে যে, তিনি তার           প্রদেয় বিষয়ের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা করতে পারেন ।
-সূরা আল- আন্আ‌ম, আয়াত ১৬৫ ।।

(২) তোমার যাবতীয় ধন- সম্পত্তি ও সন্তান সন্তনি বরং একটি পরীক্ষা ।
-সূরা আনফল, আয়াত ২৮ ।।

(৩) দুঃখ, কষ্ট এবং প্রতিকূল অবস্থায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য ধারণ কর ।।
সূরা  আল-বাকারা,আয়াত ২৬৭ ।।

(৪) ভাল মন্দ সমান নয় যদিও খারাপের পরিমাণ তোমাকে আকৃষ্ট করতে পারে ।
সূরা আল-মায়িদা , আয়াত ১০৩ ।।

ব্রেইন বা মস্তিষ্ক

প্রাণী জগতে সবারই কম বেশি বুদ্ধিমত্তা আছে – মানুষ হিসেবে আমাদের বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে বেশি। এই বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষ কত কী করতে পারে- চার পাশে তাকালেই সেটা চোখে পড়ে । এই বুদ্ধিমত্তা দিয়েই মানুষ নিজের পরিশ্রমের ভার দিয়েছে যন্ত্রের কাধে, এই বুদ্ধিমত্তা দিয়েই মানুষ রাতের অন্ধকার পৃথিবীকে করেছে আলোকিত, পাখির মতো করে আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য তৈরি করেছে আকাশযান, এই বুদ্ধিমত্তা দিয়েই নিজের কণ্ঠস্বর পাঠিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার মাইল দূরের প্রিয় মানুষটির কানে।

মানুষের কিংবা অন্য প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা শরীরের যে জৈবিক অংশ থেকে আসে সেটাকে বলা হয় ব্রেন বা মস্তিষ্ক। মানুষের মস্তিষ্কের ওজন দেড় কেজি থেকে একটু কম (১৩৭৫ গ্রাম)। মস্তিস্কের ঘনত্ব শরীরের অন্যান্য টিস্যুর মতো পানির ঘনত্তের কাছাকাছি। মস্তিষ্কের আয়তন দেড় লিটারের মতো (১৩৭৫ সিসি)। তবে সব মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন সমান নয়। একজন মানুষের আয়তন বা ওজন যেটুকু হওয়া উচিত তার চাইতে বেশি বা কম হলে সেটা বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কোনই পার্থক্য সৃষ্টি করে না।

মানব মস্তিষ্কের মূল গঠন বা উপাদান হল নিউরন। মস্তিষ্কে মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) স্নায়ুকোষ বা নিউরন থাকে। এই নিউরনগুলো অন্য নিউরনের সাথে যে যোগসূত্র দিয়ে যুক্ত তার নাম হচ্ছে সিনাপ্স। প্রতিটি নিউরনের গড়ে এক হাজার টি সিনাপ্স রয়েছে এবং সেই এক হাজার সিনাপ্স দিয়ে প্রীতিটি নিউরন আরো এক হাজার নিউরনের সাথে যোগাযোগ রাখে । মানুষের “মেধা” বলে যে শব্দটা ব্যাবহার করা হয়, সেই শব্দটা দিয়ে যদি বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাভাবনা বা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়, তাহলে বুঝতে হবে- একজন মানুষ যতটুকু মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাকে ততটুকু মেধা নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে হবে না। সে ক্রমাগত তার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে তার নিউরনের নতুন সিনাপ্স সংযোগ বাড়াতে পারে, অন্য কথায় বলা যায় তার মেধা বাড়াতে পারে। একজন মানুষ কখনোই তার জীবদ্দশায় তার সকল সম্ভাবনার (সিনপ্স সংযোগ) ভেতর দিয়ে যেতে পারে না। সব মানুষের মস্তিষ্কেই অসংখ্য অজানা অবস্থাগুলো (সিনাপ্স সংযোগ) রয়ে যায়। মস্তিষ্কের সর্বচ্চ ব্যবহারে অর্থাৎ নিউরনের সিনাপ্স সংযোগে পৃথিবী থেকে একজনকে বেছে নিতে হলে যে মানুষটিকে বেছে নিতে হবে তিনি হচ্ছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ।।